অক্টোবরে ডেঙ্গুতে ১৭৩ মৃত্যু, বাংলাদেশে সংক্রমণ অব্যাহত
অক্টোবরে ডেঙ্গুতে ১৭৩ মৃত্যু, বাংলাদেশে সংক্রমণ অব্যাহত
বাংলাদেশে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এ মাসে মশাবাহিত রোগটিতে ১৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৪১৮ হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ছাড়িয়েছে।
নভেম্বরেও সংক্রমণের আশঙ্কা
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নভেম্বরজুড়েও ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে। ডিসেম্বরের আগে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনাও কম বলে তাঁরা মনে করছেন।
রয়টার্সকে কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেছেন, আগের বৃষ্টিতে জমে থাকা পানির বিভিন্ন উৎস থেকে মশার বংশবিস্তার চলতে পারে। বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার পরিবর্তনও এডিস মশার সক্রিয় থাকার সময় বাড়িয়ে দিতে পারে।
গুরুতর রোগী নিয়ে উদ্বেগ
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কিছু রোগী শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। এসব জটিলতার মধ্যে শক ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া, রোগ শনাক্তে দেরি এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরনই ছড়িয়ে থাকায় জটিলতার আশঙ্কাও রয়েছে।
মশার বংশবিস্তার রোধে সতর্কতা জরুরি
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, পানির পাত্র ঢেকে রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
উচ্চ জ্বরের পাশাপাশি তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নভেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় মশা নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।